ডেক্স রিপোর্ট :
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামে অন্যের বসতবাড়ী দখলের অভিযোগ উঠেছে হযরত আলী ওরফে লহিন্দর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে রায়পুরা সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোঃ ফিরোজ মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘২০০১ সালের ৯ জুলাই, তিনি ঝরনা বেগমের নিকট থেকে এস এ ২০৬ নং দাগে ৮ ডিসিম জমি ক্রয় করে বসতবাড়ী হিসেবে বসবাস করে আসছে। কিন্তু তার চাচাতো ভাই হযরত আলী ওরফে লহিন্দর এই জমি জোরপূর্বক দখল করার পায়তারা করছেন। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালে লহিন্দর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ফিরোজ মিয়ার উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফিরোজ মিয়া গুরুতর আহত হয়। পরে, তাদের ভয়-ভীতির প্রদর্শনের কারণে তিনি প্রাণের ভয়ে স্বপরিবারে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় চলে যায়,
এই সুযোগে হযরত আলী উরুফে ‘লহিন্দর জোরপূর্বক তার বসতবাড়ী দখলে নেয়। এবং সে তার বোনকে দিয়ে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে জমিতে বিল্ডিং নির্মাণ করতে চাইলে ফিরোজ মিয়া মহামান্য আদালতে ১৪৫ ধারা মামলা করিলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত নির্মাণ কাজ বন্ধের আদেশ দেন। কিন্তু হজরত আলী ওরফে লহিন্দর আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বিল্ডিংয়ের কাজ অর্ধেক করে ফেলে। মহামান্য আদালত সরেজমিন তদন্তের জন্য আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়াকে নির্দেশ দেন।’
নায়েব ফিরোজ মিয়া মহামান্য আদালতের পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে মনগড়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে মহামান্য আদালতে প্রদান করেছে বলে ভুক্তভোগী ফিরুজ মিয়ার অভিযোগ, ‘ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়া বিবাদী হজরত আলী লহিন্দরের নিকট থেকে অসৎ উপায় অবলম্বন করে তার বিপক্ষে মহামান্য আদালতের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন ।
আমার নিকট জমির সকল কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নায়েব প্রতিবেদনে লিখেছেন প্রমাণপত্র দাখিল করতে পারি নাই, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাছাড়াও তিনি সরেজমিনের তদন্ত প্রতিবেদনে লিখেছেন বিবাদী টিন সেট বিল্ডিং ও দুচালা ঘর নির্মাণ করে ভোগ দখলে নিয়োজিত আছে, প্রকৃতপক্ষে এখানে কোনো টিন সেট বিল্ডিং ও দুচালা ঘর নেই।
এলাকায় এ বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের শান্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্য মাণ্য ব্যক্তিবর্গ ইউপি মেম্বার সহ স্থানীয় দরবার করা হয়েছিল সেই দরবারে বিবাদী হযরত আলী ওরফে লহিন্দর দরবারের রায় মেনে পরবর্তীতে দরবারের রায় অমান্য করেন।
ভুক্তভোগী ফিরোজ মিয়ার পরিবার তাদের বসতবাড়ি ফিরে পেতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জোসনা বেগম, তানিয়া আক্তার, প্রতিবেশী আবুল কাসেম, আলা উদ্দিন, কামাল মিয়া সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকগণ।


















