নরসিংদী (রায়পুরা)প্রতিনিধি :
নরসিংদীর রায়পুরায় আলোচিত শিশু ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষক জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়। এদিকে ধর্ষনের পর পরই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৩ লক্ষটাকার চুক্তিতে মাঠে নামে বিএনপির ৩ নেতা। বিএনপি নেতারা ধর্ষিতার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে ধর্ষনের ঘটনা উল্টে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ দাখিল করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠে। অবশেষে বিএনপি নেতাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মুখ খুলেছেন নির্যাতিতার মা। এরই ধারাবাহিকতায় ধর্ষনের ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসা শিক্ষক জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক জুনায়েদ আহমদ রায়পুরার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্ররাসার শিক্ষক। তিনি উপজেলার চান্দেরকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। একই সাথে ধর্ষক জুনায়েদ জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্ররাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভূঁইয়ার ভাইরা।
জানাযায়, রায়পুরা হাসিমপুর-কলাবাড়িয়ার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্ররাসায় ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রাত ২টার দিকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ধর্ষন করেন ওই মাদ্ররাসার শিক্ষক জুনায়েদ আহমদ। এতে শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে সকালে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাড়ীতে যাওয়ার পর শিশুটি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পরলে তার মা-বাবা ও খালাকে জানানো হয়। পরে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কতর্ব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এদিকে ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগেন জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্ররাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভূঁইয়া। সে রায়পুরা পৌর বিএনপি যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান ভূট্টো,সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস ও মিতুল চেয়ারম্যানের সাথে ৩ লক্ষ টাকার চুক্তি করেন। পরে বিএনপির নেতা ভূট্টো নির্যাতিতার পরিবারকে মামলা না করার নির্দেশ দেন। এবং সালিসের মাধ্যমে বিচারের আশ^াস প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত শনিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় সালিশের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে সালিশে গ্রামের শত শত মানুষয় জড়ো হয়। এসময় ধর্ষকের বিচারের দাবীতে ফুসে উঠে স্থানীয় জনতা। ওই্ সময় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসার একটি সাটার ভাংচুর করেন। এবং ধর্ষক জুনায়েদকে আটক করেন। গ্রামবাসীর তোপের মুখে সালিশ-বৈঠক ভেস্তে যায় এবং হট্রোগোল বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গেলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। এদিকে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই কৌশলে ধর্ষক জুনায়েদকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ও বিএনপি নেতারা। পরে ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে রোববার দুপুরে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ এনে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করানো হয়। বিষয়টি জানার পর ফুসে উঠে নির্যাতিতার পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, মাদ্ররাসা ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ঘটনা জানাজানি হলে তা নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ কোষাধক্ষ্য ও রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কুদ্দুস ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান ভুট্টা ও মিধুল চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে। পরে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে যায় সালিশ।
নির্যাতিতার মা সাংবাদিকদের বলেন,মাদ্রাসা শিক্ষক জুনায়েদ আমার মেয়েকে ধর্ষন করেন। কিন্তু বিএনপির নেতা ভূট্টো সহ অন্যান্য নেতারা আমাদেরকে বিচারের আশ^াস দিয়ে মামলা করতে দেয়নি। এমনকি সাংবাদিকের সাথেও কথা বলতেও নিষেধ দিয়ে দিয়েছে। তারা আমার মেয়ের ধর্ষনের ঘটনা উল্টে দিয়ে ধর্ষনের অভিযোগ লিখে দেয়। তারা ধর্ষককে বাচাতে চেয়েছে। আমি সেটা মানবো না। আমার কোমল মতি শিশু মেয়ের শরীর এখনো ক্ষত বহমান। আমি ধর্ষকের ফাঁসি চাই।
এদিকে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রোববার বিকেলে সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা ও রায়পুরা পৌর সভার সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান জানান, ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষক জুনায়েদকে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

















